1. live@www.bhuluapratidin.com : - : Bhulua Pratidin
  2. VRd9gee4zfDTdN@gmail.com : VRd9gee4zfDTdN :
  3. info@www.bhuluapratidin.com : স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক ভুলুয়া প্রতিদিন :
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ফ্লোরিডায় বিমান বিধ্বস্ত, দুই শিশুসহ নিহত ৯ মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সরকারের অবস্থান জানালেন শামা ওবায়েদ দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা গৃহবধূর আপত্তিকর ভিডিওধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, ইমাম ধরা রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর How to Turn Off GamStop A Practical Self-Exclusion Lift সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা খরচের বিস্তারিত ‘গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত ও সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে’ জাতি-ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী

বিষ মেশানো ভাত খেয়ে কাতরাচ্ছিলেন স্বামী, স্ত্রী এনে দিলেন বিষাক্ত শরবত

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৬৭ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় পরকীয়ার জেরে স্বামীকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগে মৌসুমী আক্তার (২৫) নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের শিংরোড প্রধানপাড়া এলাকা থেকে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

মৌসুমী আক্তার ওই এলাকার নিহত আলম হকের (৩০) স্ত্রী। আলম হক একই এলাকার তসলিম উদ্দীনের ছেলে।

মৌসুমী-আলম দম্পতির সাত বছর বয়সী একটি মেয়ে ও পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের ছোটভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলম হকের সঙ্গে মৌসুমী আক্তারের ৯ বছর আগে বিয়ে হয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে আলমকে ভাত খেতে দেন স্ত্রী মৌসুমী। খাওয়া শেষে তারা শুয়ে পড়েন। পরে হঠাৎ অস্বস্তি অনুভব করেন আলম। এক পর্যায়ে তার পেটে ব্যথা শুরু হয়। পরে তিনি বমি করতে শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দৌড়ে ছুটে যান। পরে তাকে চিনি শরবত খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় শরবতের সঙ্গে আরও ওষুধ মিশিয়ে আলমকে খাওয়ান মৌসুমী। এতে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। এ সময় তারা দেবীগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে পথেই তার মৃত্যু হয়।

পরে রাতে মরদেহ বাসায় নিয়ে গেলে খবর পেয়ে থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর মরদেহ সুরতহাল করে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়।

ঘটনার পরপর থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করেন নিহতের ছোট ভাই জাকির হোসেন।

এ ঘটনার একদিন পর সোমবার দুপুরে পরিবারের সদস্যরা মৌসুমীকে একাধিকবার জিজ্ঞেস করেন ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত আছেন কিনা। এতেও তিনি সব অস্বীকার করেন। পরে মকছেদুল নামে আলমের এক ভাগনের কাছে সব স্বীকার করেন মৌসুমী। পরে তিনি জানান, একই এলাকার বাবুল হোসেন (৩৪) নামে এক ব্যক্তির নির্দেশেই তিনি স্বামীকে ওষুধ খাইয়েছিলেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে জড়ো হন স্থানীয়রা। পরে সদর থানা পুলিশে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৌসুমীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

অভিযুক্ত স্ত্রী মৌসুমী আক্তার ওষুধ খাইয়ে স্বামীকে হত্যার ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে জানান, এলাকার বাবুল নামে এক ব্যক্তি তাকে প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করতেন। তিনি মোবাইল ফোনে কল দেওয়ার পাশাপাশি ইমু ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে দেখা করার জন্য চাপ দিতেন।

তিনি বলেন, আমার স্বামীকে ওষুধ খাওয়ানোর জন্য ওই বাবুল আমাকে ওষুধ দিয়েছিল। আমাকে বলেছিল, এটা ঘুমের ওষুধ, কিছু হবে না। বাবুল আমাকে বলেছিল, ওষুধ না খাওয়ালে আমার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে যাবে ভয়ে আমি ওষুধ খাওয়াই।

নিহত আলম হকের বড় ভাই আব্দুল করিম বলেন, আমি আলমের বউকে বলি তুমি যদি কিছু করে থাকো তাহলে বল। আমাকে বাচ্চাদের দিকে দেখে তোমাকে বাঁচিয়ে আনব। তারপরেও সে কিছু বলতে রাজি হয়নি। পরে সে মকছেদুল নামে আমাদের এক ভাগিনাকে বলে বাবুলের সাথে তার এক বছর ধরে প্রেম। তারা দুজনে মিলে পরামর্শ করে আমার ভাইয়ের খাবারে বিষ মিশিয়ে খাওয়ায়। পরে শরবতের সাথেও বিষ মিশিয়ে দেয়। আমার ভাইকে এভাবে বিষ খাইয়ে মারল, এটা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। সে অন্য কারও সঙ্গে চলে যেতে চাইলে চলে যেতে পারত। কিন্তু আমার ভাইকে মেরে ফেলল কেন? আমরা এর বিচার চাই।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। রোববার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছিল। সোমবার বিকেলে স্থানীয়রা ফোন করে জানায়, মৃত আলমের স্ত্রী নাকি ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পরে আমাদের পুলিশ সদস্যরা গিয়ে মৌসুমী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ বিষয়ে নিহতের ছোট ভাই জাকির হোসেনের করা অপমৃত্যু (ইউডি) মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে দায়ের হবে। পরে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে আদালতে তোলা হবে। এছাড়া অপর অভিযুক্ত বাবুলকে আটকে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট