গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে আপসহীন যোদ্ধা হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল হাই। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। একইসঙ্গে শোক জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এমপি এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন আব্দুল হাই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
বৃহস্পতিবার এক শোকবার্তায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, মরহুম আব্দুল হাই ১৯৭৯ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ হিসেবে তার পরিচিতি ছিল ব্যাপক। সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের নীতি ও আদর্শে গভীরভাবে আস্থাশীল এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনে বিশ্বাসী মরহুম আব্দুল হাই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে একজন আপসহীন যোদ্ধা হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।
জনসেবার মহান লক্ষ্য সামনে নিয়ে রাজনীতি করতেন বলেই সংসদ সদস্য ও সরকারের মন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকাসহ সারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে তিনি ব্যাপক অবদান রাখেন। তিনি ছিলেন একাধারে প্রাজ্ঞ ও জনঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ এবং সজ্জন ও বিনয়ী মানুষ হিসেবেও সর্বমহলে তার ছিল অকৃত্রিম গ্রহণযোগ্যতা। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও বহুদলীয় গণতান্ত্রিক চেতনাকে দৃঢ়ভাবে বুকে ধারণ করে মানুষের বাক্, ব্যক্তি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার স্বপক্ষে তার লড়াই ছিল অবিস্মরণীয়। তার মতো আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছি।
আমি আব্দুল হাইয়ের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকার্ত পরিবারবর্গ, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা।
এ ছাড়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এমপি এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু পৃথক শোকবার্তায় আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় নেতৃদ্বয় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবার-পরিজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এর আগে, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৫ অক্টোবর) দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকায় নিজ বাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন আব্দুল হাই। তার নামাজে জানাজা বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর মুন্সিগঞ্জে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।